পরিচিতি
আল-হামদুলিল্লাহ, দীর্ঘ পরামর্শ ও চিন্তা-ভাবনার পর ‘জামিয়া শাইখুল ইসলাম’ এর পথ চলা শুরু হলো। মাদরাসাটি আরও আগেই শুরু হওয়ার কথা। হাটহাজারীর হযরত, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর অনুমতিও অনেক আগেই নেওয়া ছিলো। কিন্তু বিভিন্ন কারণে মাদরাসা আরম্ভ হতে বিলম্ব হয়ে গেছে।
এটি একটি খালেস কওমী মাদরাসা। উলামায়ে দেওবন্দ ও আকাবিরে দেওবন্দের চিন্তা-ধারা লালন করে কুরআন-সুন্নাহর যোগ্য আলেম তৈরি করা এর মহৎ উদ্দেশ্য। একজন ছাত্র যেন দ্বীনের পূর্ণ জ্ঞান, মেজাজে শরীয়ত এবং দাওয়াতের ফিকির ধারণ করে যোগ্য নববী ওয়ারিস হতে পারে, সে ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া মাদরাসার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
প্রতিটি ছাত্র যেন ‘দরসিয়াত’ (পাঠ্য কিতাবাদি) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান- মজবুতির সঙ্গে মূল থেকে শিখতে পারে, সে ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব থাকবে।

মাদরাসাটিতে এখন যদিও প্রাথমিক পড়াশোনা চালু আছে, কিন্তু আমরা আশাবাদি, অল্প সময়ের মধ্যে ইনশাআল্লাহ- এটি সামনে অগ্রসর হবে এবং দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত উন্নীত হবে। মাদরাসাটি বর্তমানে ভাড়া বাড়ির উপর প্রতিষ্ঠিত হলেও এর জন্য একটি স্থায়ী জায়গার ব্যাপারে ফিকির আছে। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি, তিনি যেন সহজ করে দেন।
আমরা চাই, পড়াশোনার মাধ্যমে মাদরাসাটি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করুক। তাই সকল বিভাগে প্রথম থেকেই মানসম্পন্ন পড়াশোনার ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট আন্তরিক। মেহনতের বিষয়ে পূর্ণ সচেতন ও যত্নবান।
তাই আপনার সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষায় সুশিক্ষিত করার জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করে আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে পারেন। আশা করি, আমরা তাকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
মাদরাসাটি ‘বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড’ (বেফাক) এবং ‘কুমিল্লা জেলা ক্বওমী মাদরাসা সংগঠন’ এর কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে ইনশাআল্লাহ।
বিভাগসমূহ
- নূরানী বিভাগ
- নাজেরা বিভাগ
- হিফজ বিভাগ
- হিফজ রিভিশন বিভাগ
- বিশেষ বিভাগ (জেনারেল শিক্ষিত ও যারা বয়সে বড় তাদের জন্য)
- কিতাব বিভাগ নাহবেমীর জামাত পর্যন্ত
মাদরাসার বৈশিষ্ট্য
- অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা পাঠদান।
- দুর্বল ছাত্রদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
- আদব ও তরবিয়তের প্রতি সতর্ক-খেয়াল।
- নির্বাচন করে নয়, বরং সকল ছাত্রের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
- আরবী, বাংলা, উর্দূ ও ইংরেজীর ভাষা-জ্ঞান মূল থেকে শেখানো।
- প্রতিটি ছাত্র যেন মৌলিক যোগ্যতা নিয়ে গড়ে ওঠতে পারে, সে ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বপ্রদান।
- ভালো ফলাফল ও আমলের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা।
মাদরাসার কার্যক্রম
আমাদের সংকল্প, আমাদের প্রজন্মকে শিকড় চেনানো। সাহাবায়ে কেরাম ইসলামের ঝাণ্ডাকে উঁচু রাখার সংগ্রাম জারি রেখেছিলেন আ-মরণ, নববি আদর্শ আঁকড়ে। আমাদের আকাবিরগণও সে পথেই চলেছেন পুরো উদ্যোমে। আমাদেরও দৃঢ় সংকল্প, সে পথে পরিচালিত হওয়া। তাঁদের আমানত প্রজন্ম পরম্পরায় পৌঁছে দেওয়া। যাতে দ্বীন বিমুখ আঁধারে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো আলোকিত হতে পারে নববি আলোয়। মজবুত করতে পারে সিরাতে মুস্তাকিম অনুসরণ করে পথচলাকে। লাভ করতে পারে দুনিয়া-আখেরাতের সফলতা।
এ উপমহাদেশে শতাব্দীর বেশি সময় ধরে দ্বীনি তালিম-তরবিয়ত চলে আসছে দারুল উলূম দেওবন্দের আদলে। সে ধারাবাহিকতারই একটি প্রতিষ্ঠান জামিয়া শাইখুল ইসলাম, কুমিল্লা। আপনার সন্তান যাতে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত না হয়, পুরো উম্মতের সন্তানেরা যেন নববি আদর্শকে ধারণ-লালন ও প্রচার করতে পারে— সে লক্ষ্যেই জামিয়া শাইখুল ইসলামের প্রতিষ্ঠা।
একজন ছাত্র যেন নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার পাশাপাশি দ্বীনের সঠিক চিন্তাধারা লালন করতে পারে৷ দ্বীনের জন্য মেহনতের মানসিকতা নিয়ে গড়ে ওঠতে পারে, সেভাবেই মেহনত হবে ইনশাআল্লাহ ৷
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করে আপাতত নাহবেমীর পর্যন্ত শুরু করেছি। ভাড়া বাড়িতে। মাদরাসার পরিকল্পনা অনেক আগের। নিজস্ব জায়গা, তাখাসুস বিভাগসহ বড় ধরণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। জায়গা দেখা হচ্ছে। ইনশা-আল্লাহ সকলের দোয়াকে সঙ্গে নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ে সামনে এগুনোর পূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
